বাংলা-অসমের জনবিন্যাসের মূল্যায়ন করতে সীমান্ত-জেলায় কার্যক্রমে কমিটি মোতায়েন :শাহী নির্দেশে

On: Sunday, June 14, 2026 5:23 PM

বাংলাদেশ থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশের কারণে পশ্চিমবঙ্গ, অসম-সহ সীমান্ত রাজ্যগুলিতে জনবিন্যাসের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে বলে অভিযোগ করে কেন্দ্রীয় সরকার আগেই একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই কমিটির এক সভায় পৌরোহিত্য করেন। তিনি কমিটি সদস্যদের সীমান্তঘেঁষা জেলাগুলিতে জনসংখ্যা কাঠামোয় ঘটে চলা বদল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে বলেছেন।

শনিবারের বৈঠকে শাহ নির্দেশ দেন যে কমিটি সদস্যরা যেন সীমান্ত এলাকা, মেট্রো শহর এবং শিল্পাঞ্চল কেন্দ্রিক শহরগুলি পরিদর্শন করেন। বেআইনি অভিবাসনের পাশাপাশি সেখানে নানা অস্বাভাবিক কারণ ও ফ্যাক্টরের জেরে যেসব বদল ঘটেছে, তা মূল্যায়ন করার উপরও তিনি জোর দেন। এই পদক্ষেপ ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের পর এসেছে, যেখানে বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকে প্রধান প্রচার ইস্যু করা হয়েছিল।

অসম ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে বিজেপি এই ইস্যুতে অভাবনীয় সাফল্য লাভ করার পরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ভারতজুড়ে জনবিন্যাস বদল খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সুপারিশের জন্য এই উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়ে। কমিটির নেতৃত্বে আছেন অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নওলেকর। তাঁর সঙ্গে সেনসাস কমিশনার, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, পুলিশ কর্তারা এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির সদস্য ড. শমিকা রবিও আছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (ফরেনার্স-১) এই কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন।

গত মাসে কমিটি গঠনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ জনবিন্যাসের বদলকে দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন এবং আদিবাসী সমাজের অস্তিত্বের জন্য “বৃহৎ বিপদ” হিসাবে বর্ণনা করেন। কমিটির কাজ করার শর্তাবলিতে বলা হয়েছে, তারা বেআইনি অনুপ্রবেশ-সহ জনবিন্যাস বদলের ফলে যে সকল চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, তা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে।

কমিটি গঠন সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, কমিটি ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠী পর্যায়ে কাঠামোগত জনসংখ্যা বদল বিশদভাবে খতিয়ে দেখবে। এ ছাড়াও, বেআইনি অভিবাসীদের বৈধ, আইনি পথে সময় বেঁধে শনাক্তকরণ, আটক ও বিতাড়নের জন্য একটি মসৃণ এবং স্থায়ী অপারেশনাল মেকানিজমের সুপারিশও করবে তারা। বেআইনি অভিবাসন, অস্বাভাবিক বসতি স্থাপনের ধরণ এবং সংগঠিত স্থানান্তর-সহ বিভিন্ন পরিবর্তনের পেছনের কারণগুলোও চিহ্নিত করা এই কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।