রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষকে তিনি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কোথাও গুন্ডাগিরি, তোলাবাজি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা ঘটলে যেন তাঁকে জানানো হয়। অভিযোগ জানানোর জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারেরও সুযোগ রেখেছেন তিনি।
শনিবার দক্ষিণ কলকাতার ‘বেঙ্গল বিকাশ ফোরাম’ আয়োজিত ‘অভিনন্দন আপনো কা’ অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত হয়েই মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্যগুলি করেন। এই মঞ্চ থেকে তিনি আইনশৃঙ্খলা, বিনিয়োগ, প্রশাসনিক সংস্কার এবং পূর্বতন সরকারের সমালোচনা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেন।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, বাংলার মানুষ তাঁকে যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে পালন করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। রাজ্যের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, নতুন বিনিয়োগ আনা ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাকে তিনি তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, সরকার পরিবর্তন কেবল রাজনৈতিক পতাকা বদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থার রূপান্তর। তাঁর দাবি, নতুন সরকার স্বচ্ছ জমিনীতি, উন্নত প্রশাসনিক কাঠামো এবং কঠোর আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
তিনি জনসাধারণকে আরও জানান, কোনো জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে কেউ বেআইনি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে প্রশাসনকে সেই তথ্য অবশ্যই জানাতে হবে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, অভিযোগকারীর নাম ও মোবাইল নম্বরসহ একটি বার্তা পাঠালেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানি এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রাজ্যের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে, যার অবসান বাংলার মানুষ ঘটিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে পরিস্থিতি পরিবর্তন শুরু হয়েছে; পুলিশে বদল এসেছে ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তাঁর কথায়, একসময় যাঁরা প্রভাব খাটিয়ে চলতেন, তাঁদের অনেকেই এখন সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হচ্ছেন। অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও সরব হয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, অবৈধভাবে বসবাসকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার মানুষকে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক হোল্ডিং সেন্টারও চালু হয়েছে।
কলকাতা ও বিধাননগরের নগর প্রশাসন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। শহরের কিছু এলাকায় পরিকল্পনাহীন নির্মাণ এবং প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আগামী দিনে এ বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রাজ্যের উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং সুদৃঢ় আইনশৃঙ্খলা—এই তিন ক্ষেত্রকে সামনে রেখেই নতুন সরকার এগোচ্ছে। প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানই আগামী দিনে তাদের অগ্রাধিকার।





